সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও নাম ফ্রিজ: নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং আইনি লড়াই
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ নির্বাচন কমিশন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের 'জোড়া ফুল' প্রতীক ও নাম ফ্রিজ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
14 Oct 2026, 06:44 UTC

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস-এর সংরক্ষিত 'জোড়া ফুল' প্রতীক এবং দলের নাম ব্যবহার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সিদ্ধান্তটি মূলত দলের অভ্যন্তরে চলা তীব্র সংঘাত এবং দুটি পৃথক শিবিরের—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট গোষ্ঠী এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ের ফলে এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ এবং বিকল্প প্রতীকের লড়াই
কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই মূল দলের নাম বা 'জোড়া ফুল' প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশন উভয় শিবিরকেই ওইদিন বেলা ১১টার মধ্যে তিনটি করে বিকল্প নাম ও প্রতীক জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় [2]।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কালীঘাট তৃণমূল পক্ষ কমিশনের এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানালেও পরিস্থিতির চাপে বিকল্প নাম ও প্রতীক ইমেলের মাধ্যমে জমা দিয়েছে [1]। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির 'গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস' বা 'পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং প্রতীক হিসেবে খাম, ব্ল্যাকবোর্ড বা টর্চ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে [1]।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি চ্যালেঞ্জ এবং সর্বোচ্চ আদালতের ভূমিকা
নির্বাচন কমিশনের এই freeze আদেশের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বোচ্চ আদালত-এ আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের আবেদনের মূল লক্ষ্য হলো কমিশনের এই স্থগিতাদেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ পাওয়া এবং দলের মূল নাম ও প্রতীক পুনরায় ফিরিয়ে আনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন উপনির্বাচনের আগে প্রতীকের এই সংকট দলের সাংগঠনিক শক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং বিতর্ক
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বিজেপি নেতাদের মধ্যে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কটাক্ষ দেখা গেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য একে "উপরওয়ালার বিচার" বলে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে মৃত [1]।
একইভাবে, বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ 'জোড়া ফুল' প্রতীকটিকে 'লুটের প্রতীক' বলে আক্রমণ করেছেন। তাঁর মতে, দুই শিবিরের টানাটানির ফলেই কমিশন শেষ পর্যন্ত প্রতীকটি উপড়ে ফেলেছে [2]।
সারসংক্ষেপ: বর্তমান পরিস্থিতি
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা (১৮-১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) |
|---|---|
| মূল প্রতীক ও নাম | নির্বাচন কমিশন দ্বারা ফ্রিজ (স্থগিত) |
| বিকল্প প্রস্তাব | উভয় শিবির দ্বারা জমা দেওয়া হয়েছে |
| আইনি পদক্ষেপ | সুপ্রিম কোর্টে আবেদন দাখিল |
| জনসাধারণের আগ্রহ | গুগল সার্চে ৫০০% বৃদ্ধি (প্রায় ১০,০০০ কুয়েরি) |
Sources & further reading
0 replies
A thoughtful contribution can make all the difference. Be the first to share one.