ভারত বনাম আফগানিস্তান: অভিষেক শর্মার ৩০ বলে বিশ্বরেকর্ড সেঞ্চুরি এবং ফ্রেন্ডশিপ কাপ জয়
ভারত বনাম আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজে অভিষেক শর্মা ৩০ বলে দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। জানুন তাঁর ১০৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস এবং 'ফ্রেন্ডশিপ কাপ' জয়ের বিস্তারিত।
24 Sept 2026, 23:31 UTC

ভারত বনাম আফগানিস্তান সিরিজে অভিষেকের ঐতিহাসিক কীর্তি
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত ভারত বনাম আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা এক অভাবনীয় রেকর্ড গড়েছেন। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বোলারদের শাসন করে তিনি মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। এবিপি লাইভ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ফলে ভারত এই সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে 'ফ্রেন্ডশিপ কাপ' (Friendship Cup) নিজেদের নামে করেছে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারত এই সিরিজে সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করেছিল। BCCI-এর অফিসিয়াল আপডেট অনুযায়ী, অভিষেক শর্মা এই সিরিজের মাধ্যমে রেকর্ড বই নতুন করে লিখেছেন, যা বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের এক নতুন উদাহরণ।
রেকর্ডের খতিয়ান: দ্রুততম সেঞ্চুরির নতুন রাজা
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে অভিষেক শর্মা তাঁর ইনিংসটি শেষ করেন ৩৪ বলে ১০৮ রানে। তাঁর এই ইনিংসটিতে ছিল ৯টি বাউন্ডারি এবং ১১টি বিশাল ছক্কা। এই সেঞ্চুরির বিশেষত্ব হলো, এটি যেকোনো টেস্ট-খেলোয়াড় দেশের ব্যাটারের করা দ্রুততম সেঞ্চুরি (তিনটি ফরম্যাট মিলিয়ে)। এর আগে ভারতের হয়ে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল রোহিত শর্মার নামে, যিনি ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৩৫ বলে শতরান করেছিলেন। অভিষেক সেই রেকর্ড ভেঙে এখন তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন।
দ্রুততম সেঞ্চুরির তুলনামূলক তালিকা (টেস্ট-খেলোয়াড় দেশ)
| ব্যাটার | বল সংখ্যা | প্রতিপক্ষ | সাল |
|---|---|---|---|
| অভিষেক শর্মা (ভারত) | ৩০ | আফগানিস্তান | ২০২৬ |
| সিকান্দার রাজা (জিম্বাবওয়ে) | ৩৩ | গাম্বিয়া | ২০২৪ |
| ফিন অ্যালেন (নিউজিল্যান্ড) | ৩৩ | দক্ষিণ আফ্রিকা | ২০২৬ |
| রোহিত শর্মা (ভারত) | ৩৫ | শ্রীলঙ্কা | ২০১৭ |
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও দলের পরিস্থিতি
ম্যাচটিতে আফগান অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতের হয়ে ওপেনিংয়ে নেমে অভিষেক এবং সঞ্জু স্যামসনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কারণে পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই ভারত ১০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত রশিদ খানের বলে আউট হওয়ার আগে অভিষেক ১০৮ রান সংগ্রহ করেন। এই ম্যাচটি ছিল সিরিজের চূড়ান্ত লড়াই, যেখানে ভারতের ব্যাটিং গভীরতা এবং দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এই সিরিজের পর ভারতীয় দলের নজর এখন এশিয়ান গেমসের দিকে। সম্প্রতি এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ক্রিকেট এবং পরবর্তী অলিম্পিকের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, যেখানে অভিষেকের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষ করে পাওয়ার প্লে-তে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা ভারতকে বড় টুর্নামেন্টে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।