অন্নপূর্ণা যোজনা: অক্টোবর ২০২৬ থেকে জোড়া ভাতা বন্ধ, ফর্ম জমার শেষ তারিখ ও বিতর্ক
অক্টোবর ২০২৬ থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ও বিধবা/বার্ধক্য ভাতা একসঙ্গে মিলবে না। ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সামর্থ পোর্টালে ফর্ম জমা দিয়ে একটি প্রকল্প বেছে নিতে হবে। জেনে নিন বিস্তারিত নিয়ম ও বিতর্ক।
12 Oct 2026, 12:18 UTC

অন্নপূর্ণা যোজনা কী এবং কেন এটি আলোচনায়?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় যোগ্য প্রাপকরা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পান। ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গুগল ট্রেন্ডস ডেটা অনুযায়ী, ভারতে 'অন্নপূর্ণা যোজনা' শব্দটি নিয়ে সার্চের পরিমাণ প্রায় ৭০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার আনুমানিক সংখ্যা ২,০০০[3]। এই আকস্মিক আগ্রহের মূল কারণ হলো অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়ম এবং এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক।
অক্টোবর ২০২৬ থেকে একক সুবিধার নতুন নিয়ম
রাজ্য সচিবালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো উপভোক্তা একই সঙ্গে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার এবং বিধবা ভাতা বা বার্ধক্য ভাতা—এই দুটি প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন না। যারা বর্তমানে এই জোড়া ভাতার সুবিধা নিচ্ছেন, তাদের যেকোনো একটি প্রকল্প বেছে নিতে হবে।
এশিয়ানেট নিউজ বাংলার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপভোক্তাদের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে 'সামর্থ' (Samarth) পোর্টালে আপলোড করতে হবে। এই ফর্মের মাধ্যমে তাঁদের জানাতে হবে যে তাঁরা কোন প্রকল্প থেকে বেরিয়ে যেতে চান[1]। এই নির্দেশটি কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ভাতার পরিমাণ ও পেমেন্ট শিডিউল
আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বিবেচনা করলে দেখা যায়, বিধবা ভাতা ও বার্ধক্য ভাতা প্রকল্পে মাসিক ১,৫০০ টাকা দেওয়া হয়, যেখানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাসিক সহায়তা ৩,০০০ টাকা[1]।
পেমেন্টের তারিখ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ঘোষণা করেছিলেন যে, প্রতি মাসের ১৭ তারিখে যোগ্য প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে টাকা প্রদান করা হবে এবং ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটিকে 'অন্নপূর্ণা দিবস' হিসেবে পালন করা হবে[1]।
বঞ্চিত উপভোক্তা ও রাজনৈতিক বিতর্ক
প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বর্তমান পত্রিকার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তর শহরতলি জেলা বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছেন যে অনেক যোগ্য প্রাপক এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে বিজেপি নেতা-নেত্রীরা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বঞ্চিত মহিলাদের আধার কার্ড, ব্যাংক পাসবইয়ের ফটোকপি এবং অন্যান্য নথি নিয়ে দলীয় অফিসে যোগাযোগ করতে বলেছেন[2]।
এই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, সরকারি প্রকল্পের যাচাই কেন রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে করা হচ্ছে এবং সংবেদনশীল ব্যক্তিগত নথি দলীয় অফিসে জমা দেওয়া কতটা নিরাপদ। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তাঁরা কেবল সাধারণ মানুষকে পরিষেবা পেতে সহায়তা করছেন এবং সংগৃহীত তথ্য প্রশাসনের হাতে তুলে দেবেন[2]।
সতর্কতা
মনে রাখা প্রয়োজন যে, কোনো রাজনৈতিক দলের অফিসে নথি জমা দেওয়া সরকারি যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ নয়। প্রকল্পের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং নিয়ম মেনে চলতে শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং অফিসিয়াল 'সামর্থ' পোর্টাল অনুসরণ করা শ্রেয়।
Sources & further reading
- Annapurna Bhandar: উৎসবের মরশুমে আর মিলবে না জোড়া ভাতার টাকা! অন্নপূর্ণা নিয়ে বড় ঘোষণা সরকারের | Annapurna Bhandar And Widow Allowance Check The Details Who Are Not Getting Double Money From October Month Anbmp | Asianet News Bangla
- অন্নপূর্ণায় বঞ্চিতদের বিজেপি অফিসে আসার ‘পরামর্শ’, বিতর্ক শহরতলিতে - Bartaman Patrika
- Google Trends India: অন্নপূর্ণা যোজনা
0 replies
A thoughtful contribution can make all the difference. Be the first to share one.