এল নিনো কেন ট্রেন্ড করছে: ১৩% বর্ষা ঘাটতি, জল সংকট ও শীতের পূর্বাভাস
১০ অক্টোবর ২০২৬-এ 'এল নিনো' কেন ট্রেন্ড করল? ১৩% বর্ষা ঘাটতি, গুজরাট-কর্নাটকের খরা এবং আগামী শীতের পূর্বাভাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
15 Oct 2026, 21:41 UTC

সম্প্রতি ইন্টারনেটে 'এল নিনো' শব্দটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। Google Trends India-র তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর ২০২৬-এ এই শব্দটি ট্রেন্ডিং তালিকায় উঠে আসে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, এই ট্রেন্ডটি কেবল মানুষের সার্চ করার আগ্রহ প্রকাশ করে, আবহাওয়ার কোনো তথ্যের চূড়ান্ত সত্যতা প্রমাণ করে না।
মূলত অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত কিছু সংবাদ প্রতিবেদন এবং মৌসম ভবনের পূর্বাভাস এই আগ্রহের কারণ। ২০২৬ সালের বর্ষার ঘাটতি এবং আসন্ন শীতকালের ওপর এর প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এল নিনো আসলে কী এবং এর প্রভাব
Sangbad Pratidin-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের পেরু উপকূলের জল উষ্ণ হওয়াকেই এল নিনো বলা হয়। এটি সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে এবং বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ভারসাম্য বদলে দেয়।
ভারতে এর প্রভাব সরাসরি নয়, বরং পরোক্ষ। এটি একটি পটভূমি তৈরি করে, কিন্তু চূড়ান্তভাবে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় কতটা বৃষ্টি বা ঠান্ডা পড়বে, তা নির্ভর করে স্থানীয় বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির ওপর।
২০২৬-এর বর্ষা ও বর্তমান জল সংকট
Aaj Tak Bangla-র ৮ অক্টোবরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ১৩ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি নিয়ে শেষ হতে চলেছে। এই ঘাটতির ফলে কৃষি এবং জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।
রাজ্যভিত্তিক বর্তমান পরিস্থিতি
দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশে জল সংকটের ছবি আরও স্পষ্ট। ৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
- মহারাষ্ট্র: জলের অভাব মেটাতে ১৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে রাজ্যজুড়ে অন্তত ১০ শতাংশ জল রেশনিং করার ঘোষণা করেছে সরকার।
- গুজরাট: গুজরাট স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের তথ্যে দেখা গেছে, রাজ্যের ২০৬টি বাঁধের মধ্যে ১০৯টিতেই জলের স্তর ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গিয়েছে।
- কর্নাটক: রাজ্যের ২৪০টি তালুকের মধ্যে ১৭৭টি তালুককে খরাপীড়িত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
শীতকালে কী প্রভাব পড়তে পারে?
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত এল নিনো শক্তিশালী থাকতে পারে। এর ফলে শীতকালে সামগ্রিক ঠান্ডা কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার মতে, দীর্ঘস্থায়ী শীতের বদলে এবার স্বল্প সময়ের জন্য তীব্র ঠান্ডার পর্ব দেখা যেতে পারে।
উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ এবং পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, কলকাতা এবং পূর্ব ভারতের অন্যান্য এলাকায় কনকনে ঠান্ডার দিনের সংখ্যা কম হতে পারে এবং মাঝে মাঝে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া দেখা দিতে পারে।
Sources & further reading
0 replies
A thoughtful contribution can make all the difference. Be the first to share one.