মালদা জেলায় বন্যা পরিস্থিতি: ভুতনি দ্বীপের বাঁধ ভাঙন ও বর্তমান অবস্থা
মালদার ভুতনি দ্বীপে বাঁধ ভাঙনের ফলে ৮০টি গ্রাম জলমগ্ন হয়েছে। আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞরা নদী ভাঙন রোধে সমীক্ষা চালাচ্ছেন এবং নৌকায় করে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
21 Sept 2026, 02:54 UTC

পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা বর্তমানে এক গুরুতর বন্যা পরিস্থিতির সম্মুখীন। বিশেষ করে মানিকচকের ভুতনি দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় বাঁধ ভেঙে ব্যাপক জলমগ্নতা তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টির ফলে এই বিপর্যয় নেমে এসেছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ভুতনি দ্বীপের বাঁধ ভাঙন ও প্রভাব
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টির কারণে ভুতনি দ্বীপের কেশরপুর-কালুটনটোলা এলাকার রিং বাঁধের প্রায় ২০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে গঙ্গার তীব্র স্রোত সরাসরি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেছে। এই বিপর্যয়ের ফলে হীরানন্দপুর, উত্তর এবং দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত প্রায় ৮০টি গ্রাম ব্যাপকভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এলাকার বাসিন্দারা বর্তমানে জলবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সাহায্যের জন্য নৌকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
ত্রাণ কার্যক্রম ও বাসিন্দাদের দুর্ভোগ
বন্যার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে খাদ্যসংকট এবং বাসস্থানের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের উদ্যোগে ত্রাণ বিলি শুরু হলেও, অনেক বাসিন্দার অভিযোগ যে পর্যাপ্ত সরকারি সাহায্য তাঁদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, শুকনো খাবার, মশারি এবং বেডশিটের মতো মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য শত শত মানুষ ডিঙি নৌকায় করে ত্রাণ কেন্দ্রের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর খবর অনুযায়ী, ক্ষুধার্ত মানুষ এক মুঠো খাবারের জন্য লড়াই করছেন, যা এই অঞ্চলের মানবিক সংকটের গভীরতাকে প্রতিফলিত করে।
নদী ভাঙন রোধে বিশেষজ্ঞ সমীক্ষা
মালদা জেলার এই ভৌগোলিক সমস্যা দীর্ঘদিনের। নদী ভাঙন এবং বাঁধের দুর্বলতা এখানে একটি স্থায়ী সমস্যা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজতে আইআইটি কানপুরের (IIT Kanpur) বিশেষজ্ঞদের ভুতনি এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা নদী ভাঙনের কারণগুলি খতিয়ে দেখছেন এবং এই ক্ষয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপের পরামর্শ দেবেন।
ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট ও ঝুঁকি
মালদা জেলাকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয়। এই জেলাটি মূলত গঙ্গা এবং মহানন্দা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত। এর ভূপ্রকৃতি সমতল এবং নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ায় বর্ষাকালে এখানে বন্যার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে। বিশেষ করে মানিকচকের মতো দ্বীপ অঞ্চলগুলিতে রিং বাঁধের সামান্য ফাটল পুরো এলাকাকে জলমগ্ন করে দেয়, যা প্রতি বছর স্থানীয় কৃষি ও অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি করে।
Sources & further reading
0 replies
A thoughtful contribution can make all the difference. Be the first to share one.